শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠদান নয়, সন্তানসম স্নেহে আগলে রাখার মধ্যেই একজন শিক্ষকের প্রকৃত পরিপূর্ণতা খুঁজে পাওয়া যায়। সেই ভাবনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই সারাজীবন পথ চলেছিলেন মেহেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান। বন্ধুসুলভ আচরণ,বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক। তিনি বিশ্বাস করতেন,একজন শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়,বরং একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এই চর্চাটিই তাঁকে আলাদা মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহজ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি সামাজিক জীবনেও তিনি ছিলেন সাদা মনের মানুষ। মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল তাঁর আজন্ম অর্জন। কার প্রতি কতটুকু দায়িত্ব থাকা উচিত, সেই বোধই তাঁকে বারবার সভ্যতা ও মানবিকতার পথে পরিচালিত করেছে।
সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান মেহেরপুর সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি) এর অনারারি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট কমিশন হিসেবেও কাজ করেছেন। শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য সমন্বয় ছিল তাঁর ব্যক্তিত্বে। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসর গ্রহণের পর তিনি সন্তানদের কাছে আমেরিকায় চলে যান। সেখানেই তিনি নাগরিকত্ব লাভ করেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর সহধর্মিনী ও আমেরিকায় ইন্তেকাল করেন। দাম্পত্য জীবনে তিনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক। এক ছেলে ও দুই মেয়ে বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করা এই গুণী শিক্ষক ২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর ইন্তেকাল করেন। তবে সময়ের ব্যবধানে তাঁর শূন্যতা তৈরি হলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আজও তিনি রয়ে গেছেন বিনয়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে।