জীবনের সার্থকতা কেবল পেশাগত সফলতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং কর্ম, সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়েই একজন মানুষ হয়ে ওঠেন অনন্য। মেহেরপুরের পরিচিত মুখ এস এম শহীদুর রহমান সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যিনি কৈশোর থেকে আজ পর্যন্ত বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে নিজস্ব একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান গড়ে তুলেছেন। স্কুলজীবন থেকেই খেলাধুলার প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ। ফুটবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলায় নিয়মিত অংশ নিয়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনে নিজেকে সুপরিচিত করে তোলেন। বিশেষ করে ফুটবলে তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্য তাঁকে শুধু মেহেরপুরেই নয়, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও ঝিনাইদহসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও পরিচিতি এনে দেয়। মাঠে তাঁর শক্তিশালী শট ছিল দর্শকদের বিশেষ আকর্ষণ। এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বল পৌঁছে দেওয়ার অসাধারণ সক্ষমতার জন্য তিনি সমাদৃত ছিলেন সমসাময়িক খেলোয়াড় ও ক্রীড়া প্রেমীদের কাছে। ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কাব্য ভাবনা, সাহিত্যপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সাহিত্যঅনুরাগী ও সংস্কৃতিবান মানুষ হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্য সংগঠন ‘ভৈরব সাহিত্য সাংস্কৃতিক চত্বর’-এর বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। সংগঠনের নানা সম্মেলন, সাহিত্যসভা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন সফল করতে তাঁর আন্তরিক শ্রম ও নিষ্ঠা সংগঠনটিকে সমৃদ্ধ করেছে। পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মজীবন সম্পন্ন করেছেন। কর্মক্ষেত্রের সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর বহুমাত্রিক চিন্তাভাবনা, বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তাঁকে মানুষের কাছে আলাদা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। পারিবারিক জীবনেও এস এম শহীদুর রহমান অনুকরণীয় এক ব্যক্তিত্ব। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে বাবার মৃত্যুর পর ছোট ভাইবোনদের মানুষ করার কঠিন দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন। তাঁদের শিক্ষা দীক্ষা, প্রতিষ্ঠা এবং সংসার গুছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে ত্যাগ, স্নেহ ও ভালোবাসার পরিচয় দিয়েছেন, তা সমাজে একজন আদর্শ বড় ভাইয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অবসর জীবনেও তিনি কর্মবিমুখ নন। নিজের বাসার ছাদে গড়ে তুলেছেন নান্দনিক এক ছাদবাগান। শতাধিক প্রজাতির ফুল, ফল ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সমারোহে সাজানো সেই সবুজ পরিসর তাঁর প্রকৃতি প্রেমেরই প্রতিফলন। সময় পেলেই তিনি নিজ হাতে গাছগুলোর পরিচর্যা করেন এবং সবুজকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যান। বর্তমানে বার্ধক্যের সঙ্গে শরীরে বাসা বেঁধেছে নানা রোগ। চলাফেরায়ও কিছুটা কষ্ট অনুভব করেন। তবুও জীবনকে থামিয়ে দেননি তিনি। প্রতিকূলতার মাঝেও সাহিত্য, প্রকৃতি ও সমাজকে ঘিরে তাঁর ইতিবাচক পথচলা আজও অব্যাহত রয়েছে। খেলাধুলার মাঠ থেকে সাহিত্যাঙ্গন, কর্মজীবন থেকে পারিবারিক দায়িত্ব এবং অবসর জীবনের সবুজচর্চা-জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে এস এম শহীদুর রহমান রেখে চলেছেন নিষ্ঠা, সৌন্দর্য ও মানবিকতার অনন্য স্বাক্ষর। তাঁর জীবন সংগ্রাম, কর্মনিষ্ঠা এবং মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।