একজন চিকিৎসকের প্রকৃত পরিচয় শুধু তাঁর ডিগ্রি বা পেশাগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ থাকে না,মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা এবং সেবার মনোভাবই তাঁকে সমাজে স্মরণীয় করে তোলে। মেহেরপুরের প্রয়াত চিকিৎসক ডা. রমেশ চন্দ্র ছিলেন তেমনই একজন নিবেদিত প্রাণ মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মেহেরপুরের সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। রোগীর পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত। চিকিৎসা পেশার বাইরে তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, রথযাত্রা কমিটিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রবীণ নাগরিকদের কল্যাণে একটি সংগঠন গঠন করেও তিনি প্রশংসিত হন।
কয়েক বছর আগে তাঁর প্রয়াণে মেহেরপুর হারিয়েছে একজন মানবিক চিকিৎসক ও সমাজসেবক কে। তবে তাঁর আদর্শ ও সেবার উত্তরাধিকার বহন করে চলেছেন তাঁর কন্যা ডা. বিথী দেবনাথ। ডা. বিথী দেবনাথ বর্তমানে শিশু ও শিশু নিউরোলজি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (শিশু), এফসিপিএস (শিশু) এবং এফসিপিএস (শিশু নিউরোলজি) ডিগ্রিধারী। এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে অটিজম বিষয়ে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বর্তমানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল, আগারগাঁও, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকায় শিশু নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিশুদের স্নায়বিক সমস্যা, খিঁচুনি, বিকাশগত জটিলতা, অটিজমসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসায় তিনি দক্ষতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিভাবকরা তাঁর পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করেন। একজন চিকিৎসকের সন্তান হিসেবে শুধু পেশাগত পরিচয় নয়, মানবসেবার মূল্যবোধকেও তিনি নিজের কর্মজীবনে ধারণ করেছেন। এ কারণেই তাঁর চিকিৎসা সেবার সঙ্গে মানবিক আচরণও সমানভাবে প্রশংসিত।
ডা. রমেশ চন্দ্র কর্মময় জীবন যেমন মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে, তেমনি তাঁর কন্যা ডা. বিথী দেবনাথ ও দক্ষতা, মেধা ও সেবার মাধ্যমে সেই আলোকিত উত্তরাধিকার কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। মেহেরপুরের মানুষের কাছে এটি গর্বের বিষয় যে, এক সময় যিনি মানুষের আস্থা অর্জন করেছিলেন, তাঁরই উত্তরসূরি আজ জাতীয় পর্যায়ে শিশু নিউরোলজি চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও মানবসেবার এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।