মানুষের জীবনে দৃষ্টিশক্তি অমূল্য এক সম্পদ। সেই অমূল্য সম্পদ রক্ষা এবং চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করার মহান দায়িত্ব যিনি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে পালন করে চলেছেন, তিনি মেহেরপুরের কৃতি সন্তান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আমানুল্লাহ। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা এবং রোগীর প্রতি আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন আস্থাভাজন চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে। চক্ষু শাস্ত্রে এম.এস. ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজের চিকিৎসা-জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। চোখের বিভিন্ন জটিল রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারে তাঁর রয়েছে দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতা। ছানি অপারেশন, কৃত্রিম লেন্স সংযোজন, চোখের পর্দার বিভিন্ন সমস্যা, সংক্রমণ ও প্রদাহজনিত রোগ, চোখের ব্যথা, চোখের পাতা ও চোখের পেশি-সংক্রান্ত নানা জটিলতার চিকিৎসায় তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। তাঁর সেবায় ইতোমধ্যেই সুস্থতা ফিরে পেয়েছেন শত শত রোগী। মেহেরপুরের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসেন।দীর্ঘদিন ধরে তিনি মেহেরপুরে নিষ্ঠার সঙ্গে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে চলেছেন। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেন। গ্রাম কিংবা শহর—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা সমানভাবে প্রতিষ্ঠিত। তবে ডাঃ আমানুল্লাহর পরিচয় কেবল একজন সফল চিকিৎসকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও সাদাসিধে একজন মানুষ। আত্মপ্রচারের চেয়ে কাজের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। স্কুলজীবন থেকেই সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। নিয়মিত লেখালেখি না করলেও কৈশোরে তিনি গ্রামবাংলার প্রকৃতি, মানুষের জীবন, মাটি ও সংস্কৃতিকে উপজীব্য করে কবিতা ও ছোট ছোট সাহিত্যকর্ম রচনা করতেন। গ্রামীণ জীবনের সহজ-সরল সৌন্দর্য, মানুষের অনুভূতি ও মানবিক সম্পর্ক তাঁর লেখায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে এসেছে। চিকিৎসা পেশার ব্যস্ততার কারণে সাহিত্যচর্চা আগের মতো নিয়মিত না হলেও সাহিত্যের প্রতি সেই ভালোবাসা আজও অম্লান।বিজ্ঞানমনস্ক একজন চিকিৎসক হয়েও সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ধর্মভীরুতা, সততা, সহমর্মিতা এবং মানুষের প্রতি সম্মানবোধ তাঁর ব্যক্তিত্বকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। রোগীর প্রতি দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা এবং মানবিক আচরণই তাঁর চিকিৎসা দর্শনের প্রধান ভিত্তি।
নিরবচ্ছিন্ন সেবা, পেশাগত সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে ডাঃ আমানুল্লাহ আজ শুধু একজন দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ নন, তিনি একজন বিনয়ী মানুষ, একজন সাহিত্য প্রেমী এবং সমাজের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। মানুষের চোখে দৃষ্টির আলো ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি অর্জন করে চলেছেন মানুষের অগাধ বিশ্বাস, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। তাঁর এই আলোকিত পথচলা আগামী দিনেও সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে-এমন প্রত্যাশাই সকলের।