একজন মানুষকে কেবল তাঁর পরিচয় দিয়ে নয়, তাঁর কর্ম, চিন্তা ও মানুষের প্রতি দায়বোধ দিয়েই মূল্যায়ন করা যায়। সেই অর্থে সিরাজুল ইসলাম কেবল একজন সংস্কৃতিকর্মী নন,তিনি একজন মননশীল, মানবিক ও সমাজসচেতন মানুষ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়িত্ববোধকে নিজের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নিয়েছেন। সাহিত্য, আবৃত্তি, সাংস্কৃতিক আন্দোলন কিংবা সামাজিক উদ্যোগ-যেখানেই ইতিবাচক কোনো আয়োজন, সেখানেই নীরবে কিংবা সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে সংস্কৃতির বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ এবং সচেতন নাগরিকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সেই বিশ্বাস থেকেই বছরের পর বছর তিনি সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। কবিতা তাঁর অনুভূতির ভাষা, আর আবৃত্তি তাঁর প্রকাশের শক্তি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল কিংবা জীবনানন্দের কবিতার আবৃত্তির পাশাপাশি তিনি নিজস্ব ভাবনাকেও শব্দে রূপ দেন। তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত কবিতা শুধু শিল্পের সৌন্দর্যই নয়, মানুষ ও সমাজের প্রতি দায়বোধের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সাহিত্যকে তিনি কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখেন না, বরং মানুষকে আলোকিত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিশ্বাস করেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। নবীনবরণ, কবিতা উৎসব, আবৃত্তি সন্ধ্যা, সাহিত্য আড্ডা কিংবা বিভিন্ন দিবস ভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর আন্তরিক সম্পৃক্ততা বরাবরই চোখে পড়ার মতো। শুধু নিজে অংশগ্রহণ করেই নয়, পার্শ্ববর্তী জেলার কবি-সাহিত্যিক, আবৃত্তি শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীদের নিয়ে আয়োজনের মাধ্যমে তিনি সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করে চলেছেন। সামাজিক জীবনেও সিরাজুল ইসলাম সমানভাবে দায়িত্বশীল। অন্যায়, বৈষম্য কিংবা সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় যুক্তি, বিবেক ও মানবিকতার পক্ষে অবস্থান নেন। মানববন্ধন, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, নাগরিক উদ্যোগ কিংবা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ভালো কাজে তাঁর উপস্থিতি মানুষকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়। ইভটিজিং প্রতিরোধ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি কিংবা মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়েও তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।
অসহায়, অসুস্থ কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর স্বভাবেরই অংশ। প্রচারের আলোয় নয়, নীরব মানবিকতায় তিনি বিশ্বাসী। অনেক ভালো কাজই তিনি নিঃশব্দে করে যান, যার খবর অনেক সময় মানুষের কাছেও পৌঁছায় না। এই নিরহংকার মানবিকতাই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। শিশু-কিশোরদের প্রতি তাঁর স্নেহ, তরুণদের প্রতি তাঁর উৎসাহ এবং সহকর্মী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক তাঁকে সবার কাছে সহজেই গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বিনয়ী আচরণ, পরিমিত কথাবার্তা, বন্ধু সুলভ মনোভাব এবং ইতিবাচক চিন্তার কারণে তিনি মানুষের আস্থার একটি নাম হয়ে উঠেছেন। বই, কবিতা, গান ও সংস্কৃতির আবহেই যেন তাঁর জীবন প্রবাহিত। তিনি বিশ্বাস করেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চাই পারে একটি সমাজকে অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও সভ্য করে তুলতে। তাই ব্যক্তিগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি সংস্কৃতি ও সমাজের জন্য সময় দেন, মানুষকে একত্রিত করেন এবং সুন্দর সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখান। সিরাজুল ইসলাম এমন একজন মানুষ, যিনি আলোচনার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর জীবন চর্চায় মিশে আছে সংস্কৃতির সৌন্দর্য, সাহিত্যের গভীরতা, মানবিকতার উষ্ণতা এবং সামাজিক দায়বোধের দৃঢ় প্রত্যয়। এ কারণেই তিনি কেবল একজন সংস্কৃতিকর্মী নন, তিনি আমাদের সমাজে একজন সৃষ্টিশীল, দায়িত্বশীল ও অনুকরণীয় নাগরিকের প্রতিচ্ছবি।